শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষিণ নয়ামাটি পঞ্চায়েত কমিটি-২ এর কার্যালয় উদ্বোধন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রীড়া পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা সাখাওয়াত হোসেন খানের জন্মদিন পালন করলেন মহানগর যুবদল নেতা আব্দুর রহমান চাঁদাবাজি-জমি দখলের অভিযোগে ইকবাল হোসেন ও তার বাহিনী, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী হত্যা মামলার আসামি দেলু প্রকাশ্যে, প্রশাসন নির্বিকার! কুতুবপুরে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ দিলুর বিরুদ্ধে বিএনপির প্যাড-সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির অভিযোগ কুড়িগ্রামে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে জোর আলোচনা ফাইতংয়ে লাগাতার বন্য হাতি তান্ডবে কৃষকের হাজার স্বপ্ন এবার চোখে কান্না আড়াইহাজার থানা পুলিশ কর্তৃক ৩ রাউন্ড গুলিসহ ম্যাগাজিন ও ১ টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার। নারায়ণগঞ্জ-৪ এ ভোটের জরিপে এগিয়ে হাতি প্রতীকের মোহাম্মদ আলী

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির শুদ্ধি অভিযান: ৭ জন ‘হট লিস্টে’, গ্রেপ্তারের আতঙ্কে নেতারা

সচেতন রিপোর্ট / ৪৬০ বার পঠিত
প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে বিএনপির শুদ্ধি অভিযান। দলের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের পাহাড় জমে থাকা কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তে গিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত কয়েক মাস ধরেই দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। তিনি একাধিকবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন— দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধে জড়ানো কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু সতর্কবার্তাই নয়, অপরাধে প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এমন কঠোর অবস্থানের পরও, গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের কিছু নেতার আচরণে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সুযোগ বুঝে কয়েকজন নেতা-কর্মী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল এবং জুট ব্যবসা দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এসব কর্মকাণ্ডকে ঘিরে দলের ভেতরে বিভাজনও সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের প্রায় ১৫ জন নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের কাছে বিএনপির পক্ষে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছে বলে জানা যায় । অভিযোগে বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ইতিমধ্যে তদন্ত চলছে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ৭ জনকে রাখা হয়েছে ‘হট লিস্টে’।

দলীয় পর্যায়ে অনেককে ইতিমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। যারা এখনও তদন্তাধীন, তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে বলে দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

এই খবরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ‘হট লিস্টে’ কারা আছেন, তা নিয়ে চলছে তীব্র গুঞ্জন। অনেক নেতা ইতিমধ্যেই আত্মগোপনে চলে গেছেন, কেউবা গোপনে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছেন গ্রেপ্তার এড়াতে।
এবিষয়ে তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জননন্দিত রাজনৈতিক দল, তাই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আরও বলেন, “দলকে অপরাধমুক্ত রাখা আমাদের দায়িত্ব। ব্যক্তিগত স্বার্থে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জন্য বিএনপিতে কোনো স্থান নেই।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জে এই শুদ্ধি অভিযান শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে দেবে—দলের ভিতরে অপরাধীদের জন্য কোনো আশ্রয় নেই। তবে শেষ পর্যন্ত এই অভিযানের ফলাফল কতটা কার্যকর হয়, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন...